বাস ও ট্রেনে হাবিপ্রবি যাতায়াত

প্রতি বছর ভর্তি পরীক্ষার্থীদের বিভিন্ন জেলা থেকে দিনাজপুর(হাবিপ্রবি)আসা নিয়ে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়। বিশেষ করে যোগাযোগ ব্যাবস্থা নিয়ে সঠিক ধারণা না থাকায় অনেক সমস্যায় পড়তে হতে পারে । তাই আপনাদের সুবিধার্থে বিভিন্ন জেলা থেকে দিনাজপুরে আসার জন্য কিছু দিক-নির্দেশনা। আশা করি কাজে লাগবে আপনাদের । 

ঢাকা থেকে দিনাজপুরঃ ঢাকা থেকে বাস ও ট্রেন দুই পথেই যাওয়া যায়। বাস:আসাদগেট, কলেজগেট, শ্যামলী, কল্যাণপুর, টেকনিক্যাল মোড় অথবা গাবতলী হতে নাবিল পরিবহন, হানিফ এন্টারপ্রাইজ , শ্যামলী পরিবহন সহ আরও বেশ কিছু বাস দিনাজপুরের উদ্দ্যেশ্যে ছেড়ে আসে।ভাড়াঃ ৫৫০-৬০০ টাকা,সময় লাগবে ৮-৯ ঘন্টা। বাস ফুলবাড়ি হয়ে আসলে আসলে কালিতলা নামতে হবে,সেখান থেকে অটোরিক্সায় সরাসরি ক্যম্পাসে আসতে হবে( ভাড়া ১৫-২০ টাকা)। আর বাস যদি রংপুর,সৈয়দপুর হয়ে আসে তাহলে ভার্সিটির গেটেই নামতে পারবা। ট্রেন:ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে আন্তঃনগর ট্রেন দ্রুতযান এক্সপ্রেস রাত ৮ টায় এবং আন্তঃনগর একতা এক্সপ্রেস সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে দিনাজপুরের উদ্দ্যেশ্যে ছাড়ে।ভাড়াঃ ৪৬৫ টাকা,সময় লাগবে প্রায় ১০ ঘন্টা। দিনাজপুর স্টেশনে নেমে অটোরিক্সায় সরাসরি ক্যাম্পাসে চলে আসবা( ভাড়া ২০-২৫ টাকা)

চট্টগ্রাম থেকে দিনাজপুরঃ চিটাগাং থেকে বাসে দিনাজপুর আসাটা সবচেয়ে ভালো উপায়। মূলত “হানিফ এন্টাপ্রাইজ” এবং “শ্যামলি পরিবহন” এর বেশ কয়েকটি বাস প্রতিদিন বিকাল ৫ টা থেকে আরম্ভ করে রাত ৮ টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম থেকে দিনাজপুরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে।

কুমিল্লা থেকে দিনাজপুরঃ চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা বাসগুলো পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডে হোটেল নূরজাহান এ আধাঘন্টার যাত্রাবিরতি দেয়। যারা কুমিল্লা থেকে দিনাজপুর হাবিপ্রবি তে আসবে তাদের জন্যও চিটাগাং থেকে ছেড়ে আসা হানিফ বা শ্যামলি তে আসা ভালো হবে। এক্ষেত্রে তোমাদেরকে দুপুর ২-৩ টার দিকে নূরজাহান হোটেলে গিয়ে টিকেট বুকিং দিয়ে আসতে হবে। টিকেট বুকিং এর সময় জিজ্ঞাসা করতে হবে যেই বাসের টিকেট কাটা হয়েছে! সেই বাস টি নূরজাহান হোটেলে কখন আসবে? মূলত রাত ৮ টা থেকে ১০ টার ভিতর চিটাগাং থেকে ছেড়ে আসা বাসগুলো নুরজাহান এ প্রবেশ করে। ভাড়াঃ ৮৫০/= (হানিফ এন্টারপ্রাইজ) ৮০০/= (শ্যামলি পরিবহন) সময় লাগবেঃ ৯-১০ ঘন্টা। এছাড়া ছন্দু হোটেল, পদুয়ার বাজারের এখান থেকেও অনেক বাস দিনাজপুরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে। তবে সেগুলোতে না আসাটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

নোয়াখালি থেকে দিনাজপুরঃ উপকূল এক্সপ্রেস বাসে করে নোয়াখালি থেকে প্রথমে কুমিল্লা। প্রতি ১৫ মিনিট পর পর নোয়াখালি থেকে কুমিল্লার উদ্দেশ্যে বাস ছেড়ে যায়। এরপর পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড নেমে নূরজাহান হোটেল থেকে হানিফ বা শ্যামলি তে করে দিনাজপুর। নোয়াখালি থেকে কুমিল্লা আসতে সময় লাগবে দুই থেকে আড়াই ঘন্টা। কুমিল্লা থেকে দিনাজপুর ৯-১০ ঘন্টা। তবে অবশ্যই এমনভাবে রওনা করতে হবে যেনো রাত ৮ টার আগেই হোটেল নূরজাহান এ পৌছানো সম্ভব হয়। এবং টিকেট দুপুর ২-৩ টার আগেই বুকিং করতে হবে।

চাঁদপুর থেকে দিনাজপুরঃ পদ্মা এক্সপ্রেস ; প্রতিদিন সন্ধ্যায় একটা বাস দিনাজপুরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে। সময় লাগে ১১-১২ ঘন্টা । ভাড়াঃ ৭০০/=

সিরাজগঞ্জ টাঙ্গাইল ও বগুড়া হতে দিনাজপুরঃ বাসঃ ঢাকা থেকে দিনাজপুরগামী শ্যামলী,হানিফ,নাবিল সহ যে কোন বাসেই খুব সহজেই টাঙ্গগাইল,সিরাজগঞ্জ রোড ও বগুড়া( চারমাথা/ রেলগেট) থেকে দিনাজপুরে আসা যাবে। এছাড়া বগুড়া শহরের সাতমাথা BRTC কাউন্টার থেকে সকাল ৭ টায় এবং দুপুর ২.৩০ মিনিটে দিনাজপুরগামী BRTC পাও্য়া যাবে(ভাড়া: ২২০ টাকা) ট্রেনঃ টাঙ্গগাইল/সিরাজগঞ্জ থেকে একতা/দ্রুতযানে আসতে পারবা। বগুড়া থকে দোলনচাপায় আসা যাবে। তিনটা ট্রেনই সরাসরি দিনাজপুর স্টেশনে আসবে। তবে এই জেলাগুলো থেকে ট্রেনের চেয়ে বাসে আসাটা সুবিধজনক হবে। 

রাজশাহী থেকে দিনাজপুরঃ বাসঃ রাজশাহী থেকে প্রতিদিন সকাল ৬.৩০ এবং দুপুর ১.৪৫ মিনিটে বি আর টি সি বাস দিনাজপুরের উদ্দ্যেশ্যে ছেড়ে আসে।ভাড়াঃ৩৫০ টাকা ট্রেনঃ রাজশাহী থেকে সকাল ৬.৩০ মিনিটে তিতুমির এক্সপ্রেস এবং দুপুর ২.৩০ মিনিটে বরেন্দ্র ছাড়ে। এটাতে করে এসে ফুলবাড়ি স্টেশনে নামবা। সময় লাগবে প্রায় ৬ ঘন্টা। তারপর ফুলবাড়ি থেকে বাসে করে দিনাজপুর শহরে আসবা(ভাড়া ৫০-৬০ টাকা) । সেখান থেকে অটোরিক্সায় সরাসরি ক্যম্পাসে চলে আসবা(ভাড়া ২০ টাকা) 

নাটোর ও পাবনা থেকে দিনাজপুরঃ নাটোর স্টেশন থেকে একতা ,দ্রুতযান,তিতুমীর,বরেন্দ্র,সিমান্ত,রুপসা যে কোন ট্রেনেই আসতে পারবা। তিতুমীর এ আসলে ফুলবাড়ি নামতে হবে,আর রুপসা/সিমান্তে আসলে সৈয়দপুর নামতে হবে। তারপর সেখান থেকে দিনাজপুর আসতে হবে।তাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে একতা অথবা দ্রুতযানে আসা, এই ট্রেন দুটি সরাসরি দিনাজপুর স্টেশনে আসে। পাবনা থেকে ট্রেনে আসতে চাইলে চাটমোহর স্টেশন/ঈশ্বরদী বাইপাস থেকে একতা অথবা দ্রুতযানে আসতে হবে।এছাড়া পাবনা থেকে সরাসরি দিনাজপুরের উদ্দ্যেশ্যে BRTC বাস সার্ভিস চালু আছে। 

গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুর থেকে দিনাজপুরঃ ফরিদপুর থেকে ভাংগা হয়ে বি আর টি সি আসে। সেটা সরাসরি ক্যাম্পাসে নামিয়ে দিবে। এটাই সহজ ও ভাল উপায় । 

যশোর, খুলনা, সাতক্ষীরা ও নড়াইল থেকে দিনাজপুরঃ যশোর, খুলনা, সাতক্ষীরা, নড়াইল থেকে আসার জন্য বাস এবং ট্রেন দুইটি উপায়ই আছে। প্রত্যেক জেলা থেকে বি আরটিসি বাস আছে, সরাসরি ভার্সিটিরর সামনে নামিয়ে দেবে। যশোরের মনিহার থেকে ৫৫০ টাকা, নড়াইল থেকে ৬৫০ টাকা ভাড়া লাগবে। তবে রিস্ক কম হবে ট্রেনে আসলে। খুলনা থেকে সরাসরি দিনাজপুরের ট্রেন নেই। খুলনা, যশোর স্টেশন থেকে রুপসা/সীমান্ত ট্রেন আছে। দিনে ও রাতে এই ট্রেনে সরাসরি সৈয়দপুর আসবে। যশোর থেকে ভাড়া (নরমাল ৩১০, ফার্স্টক্লাস ৫০০)। সৈয়দপুর থেকে ইজিবাইকে ১০ টাকা দিয়ে টার্মিনাল যাবা। টার্মিনাল থেকে হলুদ পতাকাবাহী বাসে (দিনাজপুরের বাস) ভার্সিটিরর সামনে নামিয়ে দেবে। বাসে ভাড়া নেবে ৪০ টাকা। 

কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ ও মেহেরপুর থেকে দিনাজপুরঃ ট্রেনঃ রুপসা ও সীমান্ত ট্রেন দুটির যে কোন একটিতে পোড়াদহ অথবা ভেড়ামাড়া স্টেশন থেকে উঠে সৈয়দপুর আসতে হবে (ভাড়া ২৩০ টাকা) ।সময় লাগবে ৬-৭ ঘন্টা। সৈয়দপুর থেকে ইজিবাইকে ১০ টাকা দিয়ে টার্মিনাল যাবা। টার্মিনাল থেকে হলুদ পতাকাবাহী বাসে (দিনাজপুরের বাস) ভার্সিটিরর সামনে নামিয়ে দেবে। বাসে ভাড়া নেবে ৪০ টাকা। বাসঃকুষ্টিয়া থেকে BRTC বাস সরাসরি দিনাজপুরের উদ্দ্যেশ্যে ছেড়ে আসে । তবে বাসের চেয়ে ট্রেনে আসাটা বেটার হবে ।

সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগগঞ্জ ও মৌলভীবাজার থেকে দিনাজপুরঃ সিলেট,সুনামগঞ্জ,হবিগ¬জ্ঞ, মৌলভীবাজার থেকে দিনাজপুর আসার সবচেয়ে সহজ এবং উপযুক্ত মাধ্যম হলো বাসে আসা। হানিফ,শ্যামলী,রোমার, ইউনিক সহ আরো বেশ কয়েকটি বাস সিলেট থেকে দিনাজপুরেরর উদ্দ্যেশে ছেরে আসে প্রতিদিন। সময় লাগবেঃ ১৩ থেকে ১৫ ঘন্টা। ভাড়া: ৬৫০ টাকা থেকে ৯০০ টাকা। ট্রেন: সিলেট থেকে দিনাজপুরে সরাসরি কোন ট্রেন নেই, সিলেট থেকে ঢাকা এসে ট্রেন পরিবর্তন করতে হয়। এটা অনেক ঝামেলাপূর্ণ, সময়সাপেক্ষ আর খরচ ও বেশি হবে। তাই পরামর্শ থাকবে সিলেট থেকে সরাসরি ভালো বাসে করে দিনাজপুর চলে আসা।

ময়মনসিংহ থেকে দিনাজপুরঃ ময়মনসিংহ থেকে আসার জন্য ট্রেনের চেয়ে বাস ভালো হবে। তৃপ্তি পরিবহন এবং রয়েল পরিবহন এই দুটি বাস দিনাজপুরের উদ্যেশ্যে ছাড়ে। বাসে আসলে ভার্সিটির সামনে নামিয়ে দেয়।বাস সকাল ৯.৩০ এ ব্রীজের নিচে উত্তরবঙ্গ বাসটার্মিনাল থেকে ছাড়ে।বাসে আসলে সাত থেকে আট ঘন্টা সময় লাগে। ভাড়াঃ ৫৫০-৬০০ টাকা টিকেট প্রাপ্তিস্তান: মালিক সমিতি অফিস,ব্রীজ মোড়।

কিশোরগঞ্জ থেকে দিনাজপুরঃ শহীদী মসজিদের সামনে(পূরান থানা) থেকে প্রতিদিন সকাল ৬ টায় একটি করে বি আর টি সি বাস রংপুরের উদ্দ্যেশ্যে ছেড়ে আসে। রংপুর নেমে খুব সহজেই দিনাজপুর আসা যাবে। তবে সবচেয়ে ভাল উপায় হচ্ছে কিশোরগঞ্জ থেকে ময়মনসিং আসা, তারপর ময়মনসিং থেকে দিনাজপুরের বাসে সরাসরি দিনাজপুরে আসা।

রংপুর ঠাকুরগাওঁ ও পঞ্চগড় থেকে দিনাজপুরঃ রংপুর,ঠাকুরগা,পঞ্চগড় থেকে প্রায় সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি অসংখ্য বাস দিনাজপুরের উদ্দ্যেশ্যে ছেড়ে আসে। যেগুলো ক্যম্পাসের সামনেই নামিয়ে দিবে। 

যেহেতু ভর্তি পরীক্ষার সময় যানবাহন গুলোতে প্রচুর ভীড় থাকবে তাই পরামর্শ থাকবে কমপক্ষে ৩-৫ দিন পূর্বে বাস অথবা ট্রেনের টিকেট বুকিং দিয়ে রাখা ভালো।
তথ্য ও উপাত্ত সংগ্রহেঃ Swapnil Maruf , B.Sc in Computer Science and Engineering.

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s